কবরুয়া রাহমানিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পরিচিতিঃ
১। মাদরাসার নামকরণঃ
এই প্রতিষ্ঠানের নামঃ “কবরুয়া রাহমানিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা” এবং সংক্ষেপে ‘কবরুয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’ বলা যাবে।
২। মাদরাসার ঠিকানা ও কেন্দ্রীয় অফিস:
কবরুয়া রাহমানিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা গ্রামঃ কবরুয়া, ডাকঘরঃ চিওড়া, উপজেলাঃ চৌদ্দগ্রাম, জেলা- কুমিল্লা, বাংলাদেশ।
৩। মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তাঃ
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন কবরুয়া গ্রামের অধিবাসী মরহুম মো: হানিফ মাস্টারের বড় ছেলে খালেদ বিন হানিফ এর উদ্যোগ ও বিশেষ প্রেরণায় ২০১৬ খ্রি: অত্র মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আলহামদুলিল্লাহ।
৪। মাদরাসার সহপ্রতিষ্ঠাতা: কবরুয়া গ্রামের কৃতি সন্তানবৃন্দ ১.জনাব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ২.মাওলানা নূরুল ইসলাম, ৩. খালেদ বিন হানিফ, ৪.মো: ফারুখ আহমেদ,৫.আব্দুল কুদ্দুস,ও ৬. মোহাম্মদ আবু মুসা ৩নং পরিচ্ছেদে বর্ণিত উদ্যোক্তার অনুপ্রেরণায় এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রসুলের সন্তুষ্টি লাভ এবং পরকালের মুক্তির আশায় মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন।
৫। প্রতিষ্ঠানের মুতাওয়াল্লীঃ
খালেদ বিন হানিফ প্রতিষ্ঠানের মুতাওয়াল্লী থাকবেন। তাঁর পরবর্তীতে মজলিসে শুরা কর্তৃক মুতাওয়াল্লী নির্বাচন করা হবে। মুতাওয়াল্লী পদাধিকার বলে মাদরাসার সকল মজলিসের স্থায়ী সদস্য থাকবেন।
৬। মুতাওয়াল্লী পরিবর্তনঃ
মৃত্যুজনিত অথবা আল্লাহ না করুন, মানসিক ভারসাম্য হারানোর কারণে মুতাওয়াল্লী পরিবর্তনযোগ্য।
৭। মাদরাসার গঠনতন্ত্র:
এই প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলী ও আইন-কানুনের নাম "কবরুয়া রাহমানিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা গঠনতন্ত্র” হবে।
৮। মাদরাসার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য :
ক) আরবী ও দ্বীনি ইলমসমূহ তথা কুরআন মাজীদ ও ইলমুত্তাজবীদ, তাফসীর, হাদীস শরীফ, ফিক্হ (ইসলামী আইন ও ব্যবহারিক শাস্ত্র) আকাঈদ (ঈমান, আকিদা ও চিন্তাধারা) ও ইলমে কালাম এবং দ্বীনি ইলমসমূহের সহায়ক, যথা : উসূলে তাফসীর, উসূলে হাদীস, উসূলে ফিক্হ আরবী ভাষা ও সাহিত্য, আরবী ব্যাকরণ, বালাগাত (অলংকার শাস্ত্র) মানতিক (তর্ক শাস্ত্র) ফালসাফা (দর্শন) তাজকিয়া (জীবন গঠন) ফারায়েজ ইত্যাদি শিক্ষাদান।
খ) এরই সাথে বৈষয়িক এবং আধুনিক ও পুরাতন এমন ইলম শিক্ষাদান করা যা দ্বীনি জ্ঞানসমূহের জন্য সহায়ক অথবা দ্বীন ইসলাম প্রচারের সহায়ক ও পরিপূরক বলে বিবেচিত হয়। তথা ঃ মাতৃভাষা (বাংলা) ইংরেজী, গণিত, সীরাত ও ইতিহাস, পৌরবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ধনবিজ্ঞান, ভূ’গোল ইত্যাদি।
গ) শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে আত্মনির্ভরশীল ও সাবলম্বী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কুটির শিল্প, কারিগরি, কম্পিউটার, চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষাদান ও মাদরাসা সংলগ্ন একটি দাতব্য চিকিৎসালয়ের ব্যবস্থা করা এবং আর্ত ও দুঃস্থ মানবতার সেবামূলক কার্য্যক্রম চালু করা।
ঘ) লেখনী ও বক্তিতার মাধ্যমে ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞান সংরক্ষণ এবং প্রচার ও দ্বীনি আদর্শ ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের মহান দায়িত্ব আনজাম দেয়ার ব্যবস্থা করা। দ্বীনি তালীম ও তাবলীগের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে ইসলামের স্বর্ণযুগ তথা ‘খাইরূল কুরুন’ এবং অতীতের বুযুর্গানে দ্বীনের অনুসরণ ও অনুকরণে ইসলামী আখলাক, আমল ও দ্বীনি প্রেরণা সৃষ্টি করা।
ঙ) দ্বীনি ইলম সমূহের সুগভীর জ্ঞানসম্পন্ন আলেম তৈরীর উদ্দেশ্যে গবেষণাগারের ব্যবস্থা করা এবং বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামী আদর্শ তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা।
চ) ইলমে দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে ইসলামী পাঠাগার কায়েম করা ও সাধ্যমত সেগুলোর সাহায্য করা।
ছ) সমাজ থেকে নিরক্ষরতা ও মূর্খতা দূরীকরণ এবং সমাজের সর্বস্তরের জনতার নিকট দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান সমূহ পৌঁছান।
জ) ভবিষ্যতে কবরুয়া গ্রামসহ আরো অন্যান্য সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা।